লেখক মুহম্মদ জালালউদ্দীন বিশ্বাস-এর ‘বাবরনামা’ পাঠকের সামনে এসেছে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব বিষয়ক বই হিসেবে। অনুবাদক মুহম্মদ জালালউদ্দীন বিশ্বাস। প্রকাশনার দায়িত্বে ঐতিহ্য। সব মিলিয়ে ২৫৩ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: ২য় মুদ্রণ, মার্চ ২০২৩।
"বাবরনামা" বইয়ের ভূমিকা থেকে নেয়াঃ
পাক ভারত-বাংলা উপমহাদেশে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত মুসলিমদের রাজনৈতিক অভিযানগুলােকে আমি রাজনৈতিক মিশন বলে অভিহিত করে থাকি। অষ্টম শতাব্দীর শুরুর প্রথম দশকের দ্বিতীয় পদে অর্থাৎ ৭১২ ঈসায়ী মনে মুহম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানটি ছিল ভারতে মুসলিমদের প্রথম রাজনৈতিক মিশন। বিপক্ষে ছিলেন সিন্ধুর হিন্দু রাজা দাহির। তাঁর পরাজয় ও মুহম্মদের বিজয় ছিল ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রথম আধুনিক ঘটনা। কেননা, সদ্য পৌত্তলিকতামুক্ত আরববাসী পৌত্তলিক ভারতবাসীর জীবনে ইসলামের আলােকবার্তা বয়ে এনেছিলেন। সেই আলাের সংস্পর্শে পৌত্তলিক সিন্ধুবাসী হিন্দুরা আলােকিত হয়ে ওঠে। পর্যায়ক্রমে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান কেউই বাদ যায়নি। তারা সবাই আলােকত ও মুসলিম হয়ে ওঠেন।
মুসলিমদের দ্বিতীয় বিজয়াভিযান পরিচালিত হয় সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে। তৃতীয় বিজয়াভিযান পরিচালিত হয় মুহম্মদ ঘুরির নেতৃত্বে এবং তাঁর নেতৃত্বেই ভারতের দিল্লিতে প্রথম মুসলিম সালতানাত কায়েম হয়। বিপক্ষে ছিলেন অহঙ্কারী দাম্ভিক পৃথ্বিরাজ চৌহান। তাঁর দম্ভ চূর্ণ করে দিয়ে দিল্লিতে মুসলিম সালতানাত কায়েম করে এদেশে মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন মুহম্মদ ঘুরি। অবশিষ্ট পৌত্তলিক ভারত ইসলামের আলােয় আলােকিত হয়ে উঠতে থাকে। চতুর্থ অভিযান পরিচালিত হয় জহির-উদ-দিন মুহম্মদ বাবুরের নেতৃত্বে।
বিশেষ করে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব-এ আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। বইপোকার সংগ্রহে বইটি রয়েছে।