‘আরণ্যক’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লেখা চিরায়ত উপন্যাস। প্রকাশনার দায়িত্বে প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্স। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ২৬৮ পৃষ্ঠা, পেপারব্যাক বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2024 নিয়ে। পাঠকপ্রিয়তায় বইটি বেস্টসেলারের তালিকায় আছে।
এ এক প্রকৃতির গল্প। প্রকৃতির আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্যের গল্প। সভ্য সমাজের বাইরে থাকা প্রান্তিক,অবহেলিত জনগোষ্ঠীর গল্প। কিংবা একজন প্রকৃতিপ্রেমীর চোখে সৃষ্টিবিনাশ,আর প্রকৃতি ধ্বংসের এক ট্র্যাজিক স্টোরি। বিভূতি মশাই যে অতি উচ্চ মানসিকতার মার্জিত মানুষ ছিলেন,সেটার তার বইয়ের চরিত্র দেখলেই বোঝা যায়। সত্যচরণের মত এত মানবিক,নস্টালজিক,প্রকৃতিপ্রেমী চরিত্র সৃষ্টি করেছেন,ভাবা যায়! আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো যে,যেই লোক হাজারীর মত চরিত্র সৃষ্টি করতে পারে,তার দ্বারা সত্যচরণ সৃষ্টি করা কঠিন কিছু না। আর এটা কোনো উপন্যাসের কাতারেই পড়ে না। কোনো ভারী আখ্যান নেই,নেই কোনো শক্তপোক্ত চরিত্র,মানসিক-সাংসারিক টানাপোড়েন নেই। ও হ্যা,লেখকই তো প্রারম্ভে বলে দিয়ে গেছেন এটা। তবে এটায় লেখক তার যেই মোক্ষম অস্ত্রখানা প্রয়োগ করেছে,সেটা হলো ‘হিপোটানাইজম’। সত্যচরণ যেমন হিপোটানাইজ হচ্ছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য,ঝর্ণার কলকল ধ্বনি,লবটুবিয়ার জনমানুষের বিচিত্রতায়,জোৎস্নার ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যে,ঠিক তেমনি আমিও হিপোটানাইজ হয়েছি প্রকৃতি আর সত্যচরণের গুন-রুপে। কাহিনির আগাগোড়া শুধুই প্রকৃতি। সাথে আছে জন বিচিত্রতা। বইটাকে এর ধরন অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথমাংশে সত্যচরণ ধাতস্থ হয়েছেন ফুলবাড়ি বইহারে,আর মুগ্ধ হয়েছেন বন্য সৌন্দর্যে। দ্বিতীয়াংশে লেখক বুদ হয়েছেন মনুষ্য বিচিত্রতায়। আর তৃতীয় অংশ তো শুধুই ট্র্যাজেডি,ডিপ্রেসিভ।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। আজই বইপোকা থেকে অর্ডার দিন।