বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘অনুবর্তন’ — চিরায়ত উপন্যাস। প্রকাশক মাটিগন্ধা। বইটিতে আছে ১৬০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Edition, 2014।
ওয়েলেন্সি স্ট্রিটের আর পিটার লেনের মোড়ে ক্লার্কওয়েল সাহেবের স্কুলবাড়িটা বেশ সরগরম হইয়া উঠিয়াছে। ছাত্রের দল ইতিমধ্যে আসিতে শুরু করিয়াছে, বড়লোকের ছেলেরা মোটরে, মধ্যবিত্ত ও গরিব গৃহস্থের বাড়ির ছেলেরা পদব্রজে।br স্কুলের পুরোনো চাকর মথুরাপ্রসাদ ছেঁড়া ও মলিন খাকির চাপকান পরিয়া তৈরি, চাপকানের হাতের কাছটাতে রাঙা সুতায় একটা ফুটবলের শিল্ডের মতো নকশার মধ্যে ইংরেজি, 'এম' ও 'আই' অক্ষর দুইটি জড়াপট্টি খাইয়া শোভা পাইতেছে; কারণ, স্কুলের নাম মডার্ন ইনস্টিটিউশন, যদিও হেডমাস্টার ক্লার্কওয়েল সাহেবের ব্যক্তিগত চিঠির উপরে ছাপানো আছে "ক্লার্কওয়েল'স মডার্ন ইনস্টিটিউশন", আসলে সেটা ভুল; কারণ, স্কুলটি সাহেবের নিজের নয়, অনেক দিনের পুরোনো স্কুল, কমিটির হাতে আছে, ক্লার্কওয়েল সাহেব আজ পনেরো বছর এখানকার বেতনভোগী হেডমাস্টার মাত্র।br এই স্কুলবাড়ির দোতলার পিছন দিকের তিনটি ঘর হেডমাস্টারের থাকিবার জন্য নির্দিষ্ট আছে-ঘরের সামনেই ক্লাসরুম, কাজেই পর্দা ফেলা। ক্লার্কওয়েলের বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি, মাথার চুল সাদা, মোটাসোটা, সর্বদা ফিটফাট হইয়া থাকেন, টাইটা এদিক-ওদিক নড়িবার জো নাই, শার্টের সামনেটা নিখুঁত ইস্ত্রি করা, চকচকে কলার, ভালো কাটছাঁটের কোট, পেন্টালুনের পা দুটিতে চমৎকার ভাঁজ, যাহাকে বলে, 'নাইফ্- এজ-ক্রিজ্'-ছুরির ফলার মতো সরু খাঁজ। সাহেব অবিবাহিত, কেউ কেউ বলে সাহেবের স্ত্রী আছে, কিন্তু সে সাহেবের কাছে থাকে না।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। ঘরে বসেই বইপোকায় অর্ডার করুন।