‘আমি কে?’ মুহাম্মদ ইব্রাহীম-এর লেখা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বই। অনন্যা থেকে প্রকাশিত। সব মিলিয়ে ২৯৭ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2018।
"আমি কে?" বইটির ভুমিকা থেকে নেয়াঃ ‘আমি কে' এই জিজ্ঞাসা মানুষের চিরন্তন। এটি প্রত্যেক মানুষের আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। যুগে যুগে দার্শনিকরা নিজ নিজ ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়ে এ প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করেছেন। প্রত্যেক মানুষও হয়তাে নিজের মত করে এর এক রকম একটি উত্তর গড়ে নেন। তবে কারাে জন্যই প্রশ্নটি সহজ নয়। অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে এসে এ নিয়ে তত্ত্ব দিয়েছেন প্রধানত সমাজবিজ্ঞানী ও মনােবিজ্ঞানীরা। অধিকাংশ সমাজবিজ্ঞানীরা এর উত্তরের জন্য তাকাতে বলতেন যার যার সমাজের দিকে, কালচারের দিকে। এর কারণ তাঁরা মনে করতেন মানুষের শুরুটি হয় একটি পরিস্কার শ্লেট বা সাদা খাতার মত শূন্য অবস্থায়; পরে বাইরের শিক্ষা, সমাজ, কালচার ইত্যাদি ক্রমে ক্রমে এই সাদা খাতার ওপর লিখে লিখে আজকের ‘আমি’কে তৈরি করেছে। অধিকাংশ মনােবিজ্ঞানীরাও দেখতে চাইতেন বাইরের নানা উত্তেজনায় এক এক জন কী ভাবে সাড়া দিচ্ছে, আচরণ করছে, সেখান থেকেই মিলবে তার আত্ম-পরিচয়। তাঁদের কাছেও মন জিনিসটা ছিল সাদা খাতার মতই একটি নিরপেক্ষ জিনিস যাকে ইচ্ছেমত গড়া যায়। তারা ভাবতেন মনের কাজের কলকজা মস্তিষ্কের মধ্যে আছে বটে, তবে মন নিজে মস্তিষ্কের সঙ্গে আটকে নেই। সে স্বাধীনইচ্ছায় চলে, দেহের বাধ্যবাধকতায় থাকেনা। কাজেই এই উভয় দৃষ্টিভঙ্গিতেই ‘আমি কে' এ প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমাকে শুধু বাইরের দিকে তাকাতে হবে। সমাজ-শিক্ষা-পরিবেশ আমাকে যে ভাবে প্রভাবিত করেছে আমি তাই।
বিশেষ করে জানার আগ্রহ আছে এমন পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। বইপোকার সংগ্রহে বইটি রয়েছে।