লেখক হাবীবুল্লাহ সিরাজী-এর বই ‘আমার কুমার’। প্রকাশক সাহিত্য প্রকাশ। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ৭২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2010 নিয়ে।
নদ ও নদীর হেরফেরে কুমারের গায় নদের ছাপটি যে কীভাবে লাগলো-তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। বাংলাদেশের অসংখ্য নদীর দৌড়ঝাঁপের মধ্যে-ব্রহ্মপুত্র এবং কপোতাক্ষের সঙ্গে কুমারও নদ হয়ে পাল ওড়ায়, ভাই-বন্ধু হয়ে ঘাটে-ঘাটে ভেড়ে। কেউ কি এখন আর কোন্টা নদ আর কোন্টা নদী এ নিয়ে চুল ছেঁড়ে বা ভ্রু ভাঁজ করে? তাই কুমার যেমন লেখাজোখায় নদ, তেমনি বলা-কওয়ায় নদী।
নদী যে খুব বড়ো তা বলা যাবে না। বরং ছোটো নদীদের ভেতরও ছোটো। এ নদীতে লোহার ব্রিজ আছে জেলা শহরে, আর খেয়া ঘাটে- ঘাটে। তবে দু'এক জায়গায় পারাপারের জন্য বাঁশের তৈরি পুলও বর্তমান। উত্তর থেকে পানি দক্ষিণে যায়। তা সে পানি বর্ষায় যেমন ঘোলা, শীত-গ্রীষ্মে তেমন স্বচ্ছ। দুই তীরের বসতি কুমারকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বড়ো দুঃখগুলোকে ছোটো করে এবং ছোটো সুখগুলোকে বড়ো করে। আনন্দ-বেদনায় নদী আর নদী থাকে না-ফসলের ডগায়, কাপড়ের ভাঁজে, ঘরের পৈঠায় অবাধে হাত বাড়ায়। নদীকে ছুঁয়ে দেয় মানুষ, আর নদী স্পর্শ করে প্রাণ। কুমারের সঙ্গে হাততালি দিয়ে এক বয়স হয়ে ওঠে আরেক বয়স। বাঁকে-বাঁকে জল ও পানিতে মিশে থাকে জড় ও চেতনা।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত বইপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। আজই বইপোকা থেকে অর্ডার দিন।