লেখক কাজী শরীফ-এর ‘আগন্তুক’ পাঠকের সামনে এসেছে সমকালীন উপন্যাস হিসেবে। প্রকাশক অক্ষরবৃত্ত। এর কলেবর ১৩৬ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Published, 2024।
মুখবন্ধ আইনের ছাত্র হওয়ায় আদালতপাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালন শুধু আমার নিয়তি নির্ধারিতই নয়, সুপরিকল্পিতও বটে। ছাত্রাবস্থায় বিতার্কিক হিসেবে মোটামুটি পরিচিত ছিলাম বলে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ থেকে সহপাঠী বন্ধুদের একটি বড় অংশ আমাকে আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গঠনে পরামর্শ ও উৎসাহ প্রদান করেছিল। সে স্বপ্নপূরণে অধঃস্তন আদালত ও উচ্চ আদালতের তালিকাভুক্ত আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও ছাপোষা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বলে আইনপেশায় ক্যারিয়ার গড়ার দুর্গম পথ পাড়ি দেয়ার সাহস করতে পারিনি। আইনজীবী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায় ও লেগে থাকার জন্য পর্যাপ্ত সময়। এর কোনোটিই আমার ঘটে না থাকায় তুলনামূলক নিরাপদ পেশা ‘শিক্ষকতা’য় নিজেকে সঁপে দিই। তাতে মাসশেষে নিশ্চিত অর্থযোগ হলেও আইনে পড়ে আদালতের চ্যালেঞ্জ অনুভব করছিলাম না।
তাই শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে আটকে রাখতে চাইনি। বারবার বিচারক নিয়োগ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছি, ব্যর্থ হয়েছিও বারংবার। অবশেষে পাঁচবারের চেষ্টায় যখন বিচারক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হই ততদিনে কানের পাশের চুল পেকে গেছে। তবু পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা তিনি আমাকে বিচারক হিসেবে আদালতের অংশে পরিণত করেছেন। জীবনের এ পর্যায়ে এসে নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করাই। জিজ্ঞেস করি, কেন আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার চ্যালেঞ্জটুকু নিতে পারলাম না।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।