সততা আর দক্ষতাকে সম্বল করে একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আদর্শ হিন্দু-হোটেল’ সেই গল্প। রানাঘাট জংশনের ব্যস্ততার মধ্যে কাজ করা মাঝবয়সী রাঁধুনি বামুন হাজারি ঠাকুর চূর্ণী নদীর ধারে বসে স্বপ্ন দেখেন নিজের একটি হোটেলের। শূন্য থেকে শুরু করে তাঁর নিরলস লড়াই আর শেষ পর্যন্ত সাফল্যের কাহিনি পাঠককে আশার আলো দেখায়।
উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে বের হতে শুরু করে ‘মাতৃভূমি’ পত্রিকায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্থির সময়ে, যখন মন্দা আর কালোবাজারির দাপটে সমাজের চেনা সীমারেখা ভেঙে পড়ছিল। এটি লেখকের ষষ্ঠ উপন্যাস। হার না মানা মানুষের পাশে একটু সহযোগিতা আর সহমর্মিতা কত বড় শক্তি হয়ে ওঠে, তারই মানবিক দলিল এই বই।
১৯২ পৃষ্ঠার এই চিরায়ত বাংলা উপন্যাস ধীরে, নিরিবিলিতে পড়ার মতো; ক্লাসিক সাহিত্যের পাঠক ও বিভূতিভূষণ-অনুরাগীদের সংগ্রহে থাকার মতো বই।