‘আদর্শ হিন্দু-হোটেল’ — বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কলমে চিরায়ত উপন্যাস। বাতিঘর থেকে প্রকাশিত। এর কলেবর ২০০ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: ২য় প্রকাশ, ২০২3।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে প্রকৃতি নিজেই চরিত্র। কিন্তু আদর্শ হিন্দু-হোটেল-এ মানুষের জীবনই প্রধান ও প্রখর হয়ে উঠেছে। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি নিপীড়িত হয়, মিথ্যা চুরির অপবাদে পর্যুদস্ত হয়। তবু সে স্বপ্ন দেখে। খুব ব্যস্ত একটি রেলস্টেশন আর তার কাছে একটি ভাতের হোটেল, মূল ঘটনা এখানেই। শারীরিক কষ্ট, অনাদর আর অপমানে ক্লান্ত হাজারি তার সামান্য অবকাশ পার করে না সহকর্মী রতনঠাকুরের মতো গা এলিয়ে দিয়ে বা স্টেশনের ব্যস্ততা দেখে। সে চলে যায় চূর্ণী নদীর ধারের ঠাকুরবাড়িতে, কিংবা রাধাবল্লভ-তলায় নাটমন্দিরের নিভৃতিতে। স্বপ্ন দেখে ভবিষ্যতের। এমন কিছু উচ্চাশা নয় তার।
হোটেলে কাজ করতে করতে সে গ্রাহক-ঠকানো দেখে। ডাল কম পড়লে তাতে ফ্যান মিশিয়ে দেয়, বাসী মাছ কড়া করে ভেজে চালিয়ে দেয় পরের দিন। এগুলো তার সরল মনকে আলোড়িত করেছে। সে ভেবেছে নিজেই একটা হোটেল করবে। সে হোটেলে এমন লোক-ঠকানো কাজ সে করবে না। সে হোটেল করেছে, জীবনে সাফল্য এসেছে, কিন্তু তার সরল সাধারণ মনটি হারিয়ে যায়নি। ব্যবসায়িক সাফল্য কিংবা বোম্বাইয়ের ডাক তাকে বিচলিত করেনি; বিচলিত করেছে তার প্রতিপক্ষ পদ্মদিদির প্রণতি : বিদায়বেলায় তার পা ছুঁয়ে তাকে প্রণাম করে যাওয়া। এই প্রণতিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
বিশেষ করে সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। পছন্দের তালিকায় যোগ করুন বইপোকায়।