‘আবদুল্লাহ’ কাজী ইমদাদুল হক-এর লেখা চিরায়ত উপন্যাস। বইটি প্রকাশ করেছে মাটিগন্ধা। সব মিলিয়ে ১৭৫ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2018।
বি-এ পরীক্ষার আর কয়েক মাস মাত্র বাকী আছে, এমন সময় হঠাৎ পিতার মৃত্যু হওয়ায় আবদুল্লার পড়া-শুনা বন্ধ হইয়া গেল। পিতা ওলিউল্লাহর সাংসারিক অবস্থা সচ্ছল ছিল না। পৈতৃক সম্পত্তি যাহা ছিল, তাহা অতি সামান্য; শুধু তাহার উপর নির্ভর করিয়া থাকিতে হইলে সংসার চলিত না। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তিনি পৈতৃক খোন্দকারী ব্যবসায়েরও উত্তরাধিকার পাইয়াছিলেন বলিয়া নিতান্ত অন্ন-বস্ত্রের জন্য তাঁহাকে বড় একটা ভাবিতে হয় নাই।
ওলিউল্লাহ্ পীরগঞ্জের পীর-বংশে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। পূর্বে পীরগঞ্জের চতুষ্পার্শে বহু গ্রামে ইহাদের মুরীদান ছিল বলিয়া পূর্বপুরুষগণ নবাবী হালে জীবন কাটাইয়া গিয়াছেন। কিন্তু কালক্রমে মুরীদানের সংখ্যা কমিয়া এক্ষণে সামান্য কয়েক ঘর মাত্র অবশিষ্ট থাকায় ইহাদের নিদারুণ অবস্থা-বিপর্যয় ঘটিয়াছে। সে প্রতিপত্তিও আর নাই, বার্ষিক সালামীরও সে প্রতুলতা নাই; কাজেই ওলিউল্লাকে নিতান্ত দৈন্যদশায় দিন কাটাইতে হইয়াছে।
তথাপি যে দুই চারি ঘর মুরীদান তিনি পাইয়াছিলেন, তাহাদের নিকট প্রাপ্য বার্ষিক সালামীর উপর নির্ভর করিয়াই তিনি একমাত্র পুত্রকে কলিকাতায় রাখিয়া লেখা-পড়া শিখাইতেছিলেন। সুতরাং তাঁহার অকালমৃত্যুতে আবদুল্লার আর খরচ চালাইবার কোন উপায় রহিল না; বরং এক্ষণে কি উপায়ে সংসার চালাইবে, সেই ভাবনায় সে আকল হইয়া উঠিল।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।