‘আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ’ মাসুদ রহমান-এর লেখা শিল্প ও সংগীত ব্যক্তিত্ব বিষয়ক বই। কথাপ্রকাশ-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৮০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Edition, 2023।
অবিভক্ত বঙ্গদেশের এক কৌণিক প্রান্তে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১-১৯৫৩)। চট্টগ্রামের পটিয়া জেলার সুচক্রদণ্ডী গ্রামের এই মানুষটি আজীবন সেই গ্রামীণ পরিবেশে বসবাস করে,সামান্য স্কুলশিক্ষক ও কেরানির চাকরি করেও আপন কর্মবলে সারা বাংলার সারস্বতসভায় পেয়েছেন সম্মানের আসন। পুঁথির সংগ্রাহক-সম্পাদক,ইতিহাসকার,ঐতিহ্য-অন্বেষী হিসেবে তাঁর খ্যাতি। করেছেন হাজারখানেক পুঁথি উদ্ধার; যেগুলোর বেশ কিছুর তথ্যবহুল-যুক্তিনিষ্ঠ পাঠ-পরিচয় নিয়েছেন। পত্রিকায় বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ লিখেছেন প্রায় আটশ। সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্মেলনে মূল্যবান সব অভিভাষণ প্রদান করে স্বদেশবাসীকে জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত করেছেন। দারিদ্র্যের কারণে প্রবেশিকা ছাড়া আর কোনো শিক্ষাসনদ যিনি জোটাতে পারেননি,তিনিই জীবনব্যাপী সাধনার মধ্য দিয়ে মধ্যযুগের বাঙালির সম্মিলিত সাহিত্যসাধনার প্রভূত নিদর্শন উদ্ধার-উপস্থাপন করেছিলেন,যে সম্ভার যে কোনো বাঙালিকে ঐতিহ্যগর্বে আত্মবিশ্বাসী করবে। ইতিহাসের নানা অন্ধকার অধ্যায়ে করেছিলেন আলোকপাত,যে আলোয় পথ চললে বাঙালি বিপথগামী হবে না,সংকট থেকে পাবে উত্তরণের পথ। তাঁরই জীবন ও কর্ম গবেষণামূলক গাম্ভীর্যের পাশাপাশি সরস উপস্থাপনার মাধ্যমে বইটিতে সাধারণ পাঠকের কাছে উপভোগ্য করে তোলা হয়েছে।
বিশেষ করে শিল্প ও সংগীত ব্যক্তিত্ব-এ আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। আজই বইপোকা থেকে অর্ডার দিন।